Headlines

বন্ড সুবিধার কাঁচামাল কোথায় যাচ্ছে? শুল্কমুক্ত আমদানিতে নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

রপ্তানির নামে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি, বাজারে বিক্রির অভিযোগ; সরকারের রাজস্ব ঝুঁকিতে


রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশে সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বন্ড সুবিধা দিয়ে থাকে। এই সুবিধার আওতায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট শর্তে শুল্ক ও কর পরিশোধ ছাড়াই কাঁচামাল আমদানি করতে পারে। তবে এই সুবিধার আড়ালে আমদানি করা কাঁচামালের একটি অংশ খোলাবাজারে চলে যাচ্ছে কি না— তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে।

বন্ড সুবিধায় সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে ব্যবহৃত কাঁচামাল। এর মধ্যে রয়েছে কাপড়, সুতা, ফাইবার, বোতাম, জিপার, ডাইং কেমিক্যাল, প্যাকেজিং সামগ্রীসহ বিভিন্ন উপকরণ। এছাড়া চামড়া, ওষুধ, প্লাস্টিক, জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পও এই সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানি করে।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বন্ড সুবিধায় আনা কিছু পণ্য নির্ধারিত রপ্তানি পণ্যে ব্যবহার না করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। এতে একদিকে যেমন সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতে পারে, অন্যদিকে বৈধভাবে কর দিয়ে ব্যবসা করা উদ্যোক্তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়েন।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বন্ড ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো রপ্তানি শিল্পকে প্রতিযোগিতামূলক করা। কিন্তু যথাযথ নজরদারি না থাকলে এই সুবিধা কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর জন্য অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

প্রশ্ন উঠছে বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানিকৃত কাঁচামালের কত শতাংশ রপ্তানি পণ্যে ব্যবহার করছে, তার কার্যকর ট্র্যাকিং ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী? কাঁচামাল আমদানি থেকে শুরু করে উৎপাদন ও রপ্তানি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল মনিটরিং কতটা কার্যকর হচ্ছে?

অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে বন্ড অডিট নিয়মিত ও কার্যকর না হওয়ায় প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসে না। ফলে বন্ড সুবিধার আড়ালে রাজস্ব ফাঁকি বা পণ্যের অবৈধ বাজারজাতকরণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হলো বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বন্ধ করা এবং প্রকৃত রপ্তানিকারকদের সুবিধা নিশ্চিত করা। এজন্য প্রয়োজন আমদানি করা কাঁচামালের ব্যবহার, উৎপাদন ও রপ্তানি তথ্যের মধ্যে সমন্বিত নজরদারি।

রপ্তানি খাতের উন্নয়নের জন্য দেওয়া বন্ড সুবিধা যেন কিছু মানুষের অনিয়মের হাতিয়ার না হয়— এটাই এখন বড় প্রশ্ন।