ভোক্তা অধিদপ্তর সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম জনস্বার্থে আরো বেগবান করা হবে।
মোঃ জহিরুল ইসলাম
মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর

ফলোআপ নিউজ: ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যক্রমের ওপর সাধারণ জনগণের যে আস্থা তৈরি হয়েছিলো, সেটি কমেছে বলে অনেকে মনে করছেন। কেন?
মোঃ জহিরুল ইসলাম:
আমি নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। বর্তমানে অধিদপ্তরের আইন, ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতাগুলো খতিয়ে দেখছি। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আমরা চাই কার্যক্রম আরও বেগবান ও কার্যকর হোক, যাতে জনগণের আস্থা আরও বাড়ে।
ফলোআপ নিউজ: আপনি আইনি সীমাবদ্ধতার কথা বলছেন। সেগুলো কী?
মোঃ জহিরুল ইসলাম: ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু খাতে সরাসরি অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, স্বর্ণ ব্যবসা, ব্যাংক, বীমা ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আমাদের সরাসরি অভিযান চালানোর এখতিয়ার নেই। এসব খাত পৃথক নিয়ন্ত্রক সংস্থা— যেমন বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ফলে অভিযোগ পেলেও অনেক ক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পাঠাই বা তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করি। ভোক্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফলোআপ নিউজ: অনেকেই মনে করেন, ভোক্তা অধিদপ্তর শাস্তি দিলেও প্রতিষ্ঠানগুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। কেন এমন হয়?
মোঃ জহিরুল ইসলাম: আমি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি, কোনো প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালালে আগে খোঁজ নিতে হবে— সেই প্রতিষ্ঠান পূর্বে শাস্তি পেয়েছে কি না। যদি দেখা যায়, কয়েকবার সতর্ক করা ও শাস্তি দেওয়ার পরও তারা সংশোধিত হয়নি, তাহলে প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।
ফলোআপ নিউজ: ভোক্তা অধিদপ্তর কি কোনো প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করতে পারে?
মোঃ জহিরুল ইসলাম: না, ভোক্তা অধিদপ্তর সরাসরি লাইসেন্স বাতিল করতে পারে না। আমরা আইন অনুযায়ী সুপারিশ করতে পারি। লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের।
ফলোআপ নিউজ: আপনার অগ্রাধিকার কী হবে?
মোঃ জহিরুল ইসলাম: যেসব পণ্য ও সেবার বিরুদ্ধে বেশি অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে সারাদেশে একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হবে, যাতে বাজারে একটি স্পষ্ট বার্তা যায় যে অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
ফলোআপ নিউজ: গ্রাহকদের অভিযোগ কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে?
মোঃ জহিরুল ইসলাম: আমরা গ্রাহকদের অভিযোগ আরও সিরিয়াসলি আমলে নিতে চাই। অভিযোগ দ্রুত যাচাই, প্রতিকার এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হবে। জনগণের অভিযোগই আমাদের কার্যক্রমের অন্যতম ভিত্তি।
ফলোআপ নিউজ: শুধু অভিযান দিয়ে কি সমস্যার সমাধান সম্ভব?
মোঃ জহিরুল ইসলাম: না, শুধু অভিযান যথেষ্ট নয়। সচেতনতা বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা পোস্টার, লিফলেট, সেমিনারসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে ভোক্তাদের সচেতন করার উদ্যোগ নেব।
ফলোআপ নিউজ: আপনি বারবার ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার কথা বলছেন, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের গড় শিক্ষা এখনো তো কম। কীভাবে এটা হতে পারে?
মোঃ জহিরুল ইসলাম: কারণ সচেতন ভোক্তাই সবচেয়ে বড় শক্তি। পণ্যের মেয়াদ, মূল্য, ওজন, গুণগত মান, রসিদ— এসব বিষয়ে ভোক্তাদের নিজেকেও সতর্ক থাকতে হবে। শুধু সরকার বা অধিদপ্তরের পক্ষে একা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
ফলোআপ নিউজ: জনগণের জন্য আপনার বার্তা কী?
মোঃ জহিরুল ইসলাম: ভোক্তা অধিকারকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও জনমুখী করতে আমরা কাজ করছি। অনিয়ম দেখলে অভিযোগ করুন, প্রমাণ সংরক্ষণ করুন এবং সচেতন থাকুন। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া ভোক্তা সুরক্ষা পূর্ণাঙ্গভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
ফলোআপ নিউজকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। — দিব্যেন্দু দ্বীপ সম্পাদক, ফলোআপ নিউজ
